২৩৫ করেও হলো না মুম্বাইয়ের, শেষ বলের ছক্কায় জিতল বেঙ্গালুরু

ট্রেন্ট বোল্টের অফস্টাম্পের বাইরের বলটা টেনে মারতে গিয়ে ক্যাচ দিলেন জেসন রয়। হায়দরাবাদ প্রথম উইকেট হারাল ৬৪ রানে। তবে প্লে-অফে যেতে এই ৬৪ রানের মধ্যেই হায়দরাবাদকে অলআউট করতে হতো মুম্বাইয়ের। অসম্ভব সে কাজটা হয়নি।

আগের টানা দুই মৌসুমে আইপিএলের চ্যাম্পিয়ন মুম্বাই এবার আটকে গেল শেষ চারে যাওয়ার আগেই। একই সময়ে শুরু হওয়া অন্য ম্যাচে হয়েছে আরেক নাটক। শেষ বলে মারা ছক্কায় দিল্লির বিপক্ষে বেঙ্গালুরুকে জিতিয়েছেন শ্রীকর ভরত। অবশ্য টসে জিতে বিরাট কোহলি ব্যাটিং নেওয়ার সময়ই নির্ধারণ হয়ে গেছে, শেষ চারের লাইন-আপে কোনো প্রভাব ফেলবে না এ ম্যাচ।

তাতে অবশ্য রোমাঞ্চ কমেনি। আবুধাবিতে মুম্বাই ধ্বংসাত্মক ব্যাটিংয়ে গড়েছে ২৩৫ রানের বিশাল স্কোর। ঈশান কিষানের ৩২ বলে ৮৪ রানের ইনিংসের পর সূর্যকুমার যাদবের ৪০ বলে ৮২ রানের ইনিংসে এ রান-পাহাড়ে ওঠে মুম্বাই।

শুধু আইপিএলের এ মৌসুমে কোনো দলের সর্বোচ্চ স্কোর নয়, নিজেদের ইতিহাসেই মুম্বাই এত রান এর আগে করেনি কখনো। শেষ পর্যন্ত তাদের জন্য যথেষ্ট হয়নি সেটাও। রান তাড়ায় শুরুটা ঝোড়ো করেও অবশ্য গতি ধরে রাখতে পারেনি টেবিলের তলানিতে থাকা হায়দরাবাদ।

টসের সময়ই মুম্বাই অধিনায়ক রোহিত শর্মা বলেছিলেন, প্লে-অফে যেতে তাঁদের সামনে থাকা কাজটা ‘ভীতিজাগানিয়া’। তবে এরপর ভয়ংকর ব্যাটিং শুরু করলেন কিষান। মোহাম্মদ নবীর দ্বিতীয় বলে ছয় মেরে শুরু করেছিলেন তিনি, এরপর আর থামেননি তিনি।

থামেনি মুম্বাইও। কিষান ফিফটি পূর্ণ করেন মাত্র ১৬ বলে, আইপিএল ইতিহাসে এর চেয়ে কম বলে ফিফটি আছে মাত্র তিনটি। ৩.৪ ওভারেই দলীয় স্কোর ফিফটি হয় মুম্বাইয়ের। ৬ষ্ঠ ওভারে অধিনায়ক রোহিত শর্মা ফিরলেও ততক্ষণে মুম্বাইয়ের রান ছিল ৮০। এরপর ১০০ রান করতে তাদের লাগে ৭.১ ওভার।

শেষ পর্যন্ত ৩২ বলে ৮৪ রান করে ফেরেন কিষান। ইনিংসে ১১টি চারের সঙ্গে কিষান মারেন ৪টি ছয়। তিনে আসা হার্দিক পান্ডিয়া করেছেন ৮ বলে ১০ রান, চারে এসে কাইরন পোলার্ড ফিরেছেন ১২ বলে ১৩ রান করে। তবে কিষানের ব্যাটনটা এরপর নিয়েছেন সূর্যকুমার যাদব। সুইপ, স্কুপ—যাদব খেলেছেন সবকিছুই। ১৩তম ওভারে অভিষেক শর্মার পরপর দুই বলে ফিরেছেন পোলার্ড ও জিমি নিশাম, তবে যাদবের তাতে কিছু যায় আসেনি। ২৪ বলে ফিফটি হয়ে যায় তাঁর। আউট হয়েছেন ইনিংসের ২ বল বাকি থাকতে। এর আগে ইনিংসে ১৩ চারের সঙ্গে মেরেছেন ৩টি ছয়।

২৩৬ রানের প্রায় ‘অসম্ভব’ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রয় করেছেন ২১ বলে ৩৪, ১৬ বলে ৩৩ রান অভিষেক শর্মার। এরপর এ ম্যাচে অধিনায়কত্ব করা মনীশ পান্ডে ৪০ বলে ৬৮ রানে অপরাজিত থাকলেও ১৯৩ রানেই আটকে গেছে হায়দরাবাদ।

আবুধাবিতে যখন রোমাঞ্চ মিলিয়ে গেছে, দুবাইয়ে তখনোই হয়েছে নাটক। ১৬৫ রান তাড়া করতে নেমে ৬ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া বেঙ্গালুরুকে টেনেছেন ভরত। এবি ডি ভিলিয়ার্স খেলেছেন সমানসংখ্যক বলে ২৬ রানের স্বভাববিরুদ্ধ ইনিংস। তবে ভরতের সঙ্গে এরপর গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের জুটি আশা জুগিয়েছে তাদের।

শেষ ওভারে বেঙ্গালুরুর প্রয়োজন ছিল ১৫ রান। প্রথম বলেই আবেশ খানকে চার মারেন ম্যাক্সওয়েল। দ্বিতীয় বলে ডাবলস এলেও পরের ৩ বলে আসে মাত্র ৩ রান। শেষ বলে প্রয়োজন ছিল ৬ রান। আবেশ এরপর করেছেন ওয়াইড। শেষ বলে আবেশের মিডল স্টাম্প বরাবর করা ফুলটসে তুলে মারেন ভরত। বেশ কিছুক্ষণ সবাইকে অপেক্ষা করিয়ে বলটা এরপর পেরিয়েছে লং-অনের বাউন্ডারি, উল্লাসে মেতেছে বেঙ্গালুরু। ভরত শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৫২ বলে ৭৮ রানে, অন্যদিকে থাকা ম্যাক্সওয়েল করেন ৩৩ বলে ৫১ রান। এর আগে পৃথ্বি শর ৩১ বলে ৪৮ ও শিখর ধাওয়ানের ৩৫ বলে ৪৩ রানের ইনিংসের পর শেষ দিকে শিমরন হেটমায়ারের ২২ বলে ২৯ রানে ১৬৪ পর্যন্ত যায় দিল্লি।

প্লে-অফে এখন প্রথম কোয়ালিফায়ারে দিল্লির মুখোমুখি হবে চেন্নাই। এলিমিনেটরে কলকাতার প্রতিপক্ষ বেঙ্গালুরু।